স্থান-কালের উর্ধে উঠে গোর্কির রচনার মুখ্য ভূমিকায় সর্বদাই অবতীর্ন হয়েছে মানুষ। পরিস্থিতির চাপে বিপর্যস্ত মানুষ আর মানবাত্মার দুর্দশার মাঝেও এই সংকলনের কাহিনীগুলি মানবসমাজের প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ জয়যাত্রার কথাই ঘোষণা করে। যে গল্পে মানুষের পরিবর্তে কোনও পাখির কথাই প্রধান উপজীব্য হিসাবে দেখতে পাই, সেখানেও কিন্তু পাখির প্রতীকে কাহিনীকার আপাত জয়-পরাজয়-নিরপেক্ষভাবে মানুষের সংগ্রামের কাহিনীকেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। বিখ্যাত রূপকথা লেখক হ্যান্স অ্যান্ডারসন বলেছিলেন যে, জীবনের থেকে বড় রূপকথা আর কিছু নেই। গোর্কির রচনার মধ্যে সেই প্রত্যয়েরই সমর্থন মেলে। যাদের কথা সমাজের ওপরতলার বাসিন্দারা ভাবারও সময় পাননা, তাঁর শক্তিশালী লেখনী সাহিত্যে সেই সব চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলেছে। যে সব ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে নগণ্য বলে মনে হয়, ম্যাক্সিম গোর্কি তারই মধ্যে বৈশিষ্ট্য খুঁজে নিয়ে তাঁর অনন্যসাধারণ অভিজ্ঞতা, গভীর বিশ্লেষণী ক্ষমতা আর চরিত্রদের প্রতি সহানুভূতির বোধ থেকে আশ্চর্য ভাষায় বাঙময় করে তুলেছেন তাঁর সাহিত্যসৃষ্টিকে। ১২ টি এইরকম ছোটগল্প স্থান পেয়েছে এই সংকলনে। এই কাহিনীগুলি আমাদেরই জীবনের রূপকথা।
For young readers
Book data: Open Library